বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

পুষ্টি উপাদান জিংক

বিভিন্ন বয়সী ৫৭ শতাংশ নারীর রয়েছে জিংক স্বল্পতা। ১৫ থেকে ১৯ বছরের শতকরা ৪৪ ভাগ মেয়ে জিংকের অভাবে খাটো হয়ে যাচ্ছে। এর সমাধান খুঁজতেই ভাতের মাধ্যমে জিংকের অভাব দূর করতে ৮ জাতের জিংকসমৃদ্ধ ধান উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশের উচ্চ ফলনশীল ধানের সঙ্গে পরাগায়ন ঘটিয়ে জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাতগুলো উদ্ভাবন করা হয়েছে। সাধারণ জাত, এগুলো জিএম ধানও নয়। এ ধান থেকে কৃষকরা নিজেরাই বীজ তৈরি করে রোপণ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করেছে বিনাধান ২০। এটি জিংকসমৃদ্ধ। এর চালের রঙ লালচে ও বাদামি। প্রতি কেজি চালে ২৬ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম জিংক রয়েছে। এ জাতটি চাষাবাদ উচ্চ ফলনশীল ধানের আবাদের মতোই।

ড. মো. খায়রুল বাশার বলেন, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ পর্যন্ত ১৬টি বায়োফরটিফাইড ক্রপ জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে

রোপা আমন মৌসুমের জন্য দুটি জিংকসমৃদ্ধ জাত ব্রি ধান৬২ এবং ব্রি ধান৭২ (স্বল্প জীবনকাল) উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।ব্রি ধান৬২ এর প্রতি কেজি চালে প্রায় ২০ মিলিগ্রাম জিংক রয়েছে। হেক্টরপ্রতি এর ফলন ৪ থেকে সাড়ে ৪ টন। বছরের অন্যান্য মৌসুমেও এ ধানের আবাদ করা যায়। ব্রি ধান৭২ এর প্রতি কেজি চালে জিংক রয়েছে ২২ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন ৫ দশমিক ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ টন। এ ধান চাষাবাদে প্রচলিত জাতের চেয়ে কম পরিমাণে ইউরিয়া সার লাগে। ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) কৃষিবিদ তমাল লতা আদিত্য জানান, জিংকসমৃদ্ধ আরও নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এদিকে বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি ধান৬৪ উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার প্রতি কেজিতে ২৫ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম জিংক রয়েছে। হেক্টরপ্রতি এর ফলন ৭ টন। চাষাবাদ উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের মতো। ব্রি ধান৭৪ এর প্রতি কেজি চালে জিংক রয়েছে ২৪ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন ৮ টনেরও বেশি। এ জাতটি মধ্যম মানের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী। ব্রি ধান২৮ এর বিকল্প হিসেবে সম্প্রতি উদ্ভাবন করা হয়েছে ব্রি ধান৮৪, এটিও জিংকসমৃদ্ধ।

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    Archives

    © All rights reserved © 2018 Prothom24
    Design & Developed BY N Host BD